শাকিব খানের শূন্য থেকে শুরু করে আজকের ঢালিউড কিং হয়ে ওঠার গল্প
আজ আমরা জানব শাকিব খানের শূন্য থেকে শুরু করে আজকের ঢালিউড কিং হয়ে ওঠার গল্প।মাসুদ রানা (পরে চলচ্চিত্রে এসে নাম হয় “শাকিব খান”) জন্ম: ২৮ মার্চ ১৯৭৯ (কেউ কেউ বলেন ১৯৮৩), গোপালগঞ্জ জেলা, বাংলাদেশ।গ্রাম: গোপালগঞ্জের মল্লিকপুর গ্রাম।বাবা ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী, মা ছিলেন গৃহিণী।ছোটবেলা কেটেছে গোপালগঞ্জে, পরে বাবার চাকরির কারণে ঢাকায় আসা হয়।
শাকিব খানের স্বপ্নের শুরু
স্কুল-কলেজে পড়ার সময় থেকেই অভিনয় ও নাচের প্রতি আগ্রহ ছিল।ঢাকায় এসে সিনেমার প্রতি টান বাড়তে থাকে।১৯৯৬ সালে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশের চেষ্টা শুরু।প্রথম অভিনয় “অনন্ত ভালোবাসা” (১৯৯৯) – তবে মুক্তি পেয়েছিল পরে।প্রথমদিকে অনেক সিনেমাই চলেনি, কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি।ধীরে ধীরে অভিনয়, নাচ, সংলাপ—সবক্ষেত্রে উন্নতি আনেন।
শাকিব খানের জনপ্রিয়তার শীর্ষে ওঠা
২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে টানা হিট সিনেমা দিতে শুরু করেন।
বিখ্যাত সিনেমা: প্রিয়তমা, শিকারি, নবাব, চাচ্চু, কিং খান, নাম্বার ওয়ান শাকিব খান ইত্যাদি।
“ঢালিউড কিং” খেতাব পান তাঁর রাজত্বকারী জনপ্রিয়তার কারণে।
শাকিব খানের অর্জন ও পুরস্কার
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ৪ বার: ভালবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না, খোদার পরে মা, বিরক্তি, শিকারি
অসংখ্য বেসরকারি পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।
শাকিব খানের আন্তর্জাতিক সাফল্য
বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করে সাফল্য পান (শিকারি, নবাব, চ্যাম্পিয়ন)।
কলকাতার ইন্ডাস্ট্রিতেও তাঁর জনপ্রিয়তা তৈরি হয়।
শাকিব খানের শূন্য থেকে হিরো হওয়ার মূল কারণ
পরিশ্রম – প্রথমদিকে ব্যর্থ হলেও থেমে যাননি।
নিয়মিত অনুশীলন – অভিনয় ও নাচের দক্ষতা বাড়িয়েছেন।
দর্শকের রুচি বোঝা – কোন ধরণের চরিত্রে মানুষ তাঁকে বেশি পছন্দ করে, সেটা ধরে রেখেছেন।
ঝুঁকি নেওয়া – ভারতীয় ছবিতে অভিনয় করা, নতুন ধাঁচের সিনেমা করা।
শাকিব খানের স্বপ্নের বীজ
বাবার চাকরির বদলির কারণে ঢাকায় আসা
ঢাকায় এসে বাংলা সিনেমার প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি
পরিবারের কেউ সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে না থাকায় পথটা ছিল সম্পূর্ণ অচেনা
একসময় সিনেমা হলে গিয়ে নায়কদের অভিনয় দেখে অনুপ্রাণিত হন
শাকিব খানের ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশ
প্রথমে অভিনয়ের সুযোগ পাননি—বারবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে
অভিনয় শিখতে ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সময় নেন
১৯৯৬-১৯৯৮: ছোট চরিত্র ও ব্যর্থ প্রজেক্টে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন
১৯৯৯: অনন্ত ভালোবাসা – শাকিবের প্রথম ছবি (মুক্তি পরে হলেও এটাই শুট করা প্রথম সিনেমা)
শাকিব খানের ধীরে ধীরে উত্থান
২০০০-এর শুরুর দিকে কিছু ব্যবসাসফল ছবি যেমন বাস্তব, তোমাকে চাই, প্রিয়জন
চাচ্চু (২০০৬) ছিল বড় টার্নিং পয়েন্ট – এই ছবি তাঁকে গ্রাম থেকে শহর—সবখানে জনপ্রিয় করে তোলে
এরপর টানা বাণিজ্যিক হিট দিয়ে ঢালিউডের শীর্ষে উঠে আসেন
শাকিব খানের “ঢালিউড কিং” হওয়ার ধাপ
২০০৭-২০১১: প্রায় সব বাণিজ্যিক ছবিতেই শাকিব খানই হিরো
প্রযোজকরা তাঁকেই ভরসা করে বড় বাজেটের ছবি করতেন
নিজের ডায়লগ ডেলিভারি, স্টাইল ও নাচের ভঙ্গি দিয়ে আলাদা ফ্যানবেস তৈরি
নায়িকাদের সাথে জুটি—অপু বিশ্বাস, বুবলী, অহনা, পায়েল প্রমুখের সাথে জুটি হিট হয়
শাকিব খানের আন্তর্জাতিক পরিসর
২০১৫-২০১৭: ভারতীয় বাংলা সিনেমায় কাজ শুরু (শিকারি, নবাব)
শিকারি তাঁকে নতুন লুকে ও ভিন্ন কাহিনিতে দর্শকের সামনে তুলে ধরে
কলকাতার ইন্ডাস্ট্রিতেও প্রশংসা কুড়ান
বিতর্ক ও আলোচনায় থাকা
শাকিব খানের বিতর্ক ও আলোচনায় থাকা
সিনিয়র-জুনিয়র নায়ক-নায়িকাদের সাথে মতবিরোধ
একসময় একাই সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির বেশিরভাগ সিনেমা করতেন বলে সমালোচনা
ব্যক্তিগত জীবনে নায়িকা অপু বিশ্বাস ও বুবলীর সাথে সম্পর্ক ও সন্তান প্রসঙ্গে মিডিয়ায় আলোচনায় আসা
শাকিব খানের শৈশবের দিনগুলো
গোপালগঞ্জ জেলার মল্লিকপুর গ্রামে জন্ম, গ্রাম্য পরিবেশে বেড়ে ওঠা।
ছোটবেলায় ফুটবল খেলতে খুব ভালোবাসতেন, কিন্তু সিনেমা হলের পোস্টার দেখলেই মন ভরে যেত।
বাবা সরকারি চাকুরে হওয়ায় শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশে বড় হয়েছেন।
শাকিব খানের ঢাকায় আসা – সংগ্রামের শুরু
পরিবারের সাথে ঢাকায় চলে আসেন বাবার বদলির কারণে।শুরুতে ইন্ডাস্ট্রিতে কারও চেনাশোনা ছিল না, ফলে সুযোগ পাওয়া ছিল কঠিন।একাধিকবার পরিচালক ও প্রযোজকের অফিসে গিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।বন্ধুদের সাহায্যে প্রথমবার সিনেমার সেটে যাওয়ার সুযোগ পান—সেখান থেকেই যাত্রা শুরু।অনন্ত ভালোবাসা ছিল শুট করা প্রথম ছবি, তবে মুক্তি পায় অনেক পরে।শুরুতে ২–৩ বছর শুধু ছোট চরিত্র ও এক্সট্রা হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকা—তখন কেউ চিনত না।অনেক সময় শুটিংয়ের পর টাকা না পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন, কারণ নতুন মুখকে কেউ ভরসা করত না।
| আরো পড়ুন শাকিব খানে তাণ্ডব মুভির ২০২৫ থ্রিলার-অ্যাকশন আরফান নিশোর নতুন সিনেমা দম এর কাহিনী এবং সারসংক্ষেপ ম্যানেজ মাস্টার নাটক পাট ১ আরটিভিতে প্রচার তারিখ প্রচার সময়সূচী এবং অভিনেতাসহ বিস্তারিত |